1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

দখলে রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিস ঘুষ ছাড়া সেবা নেই

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৩ বার পঠিত

 

 

মোঃ লিটন হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর জেলা রায়পুর উপজেলায় বেশির ভাগ ভূমি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো আবেদনে উপজেলা এবং জেলার কর্মকর্তাদের মেনেজ করার নাম করে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করা হয়।  ঘুষের টাকা দিলেই দলিলে ভুল থাকলেও জমাখারিজ সহ সবকিছুই সহজে করে দেন, টাকা না দিলে ঐ জমাখারিজ সহ সকল আবেদনে নানাভাবে হয়রানি করে মাসের পর মাস রিপোর্ট ঝুলিয়ে রাখা হয়।

২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুস সত্তার সহ অফিসের কর্তব্যরত অন্যান্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নামজারী (জমাখারিজ)ও নালিশী ভূমির মামলা সরজমিনে তদন্তে, নাম ভুল সংসদে মোটা অংকের ঘুষ দাবী সহ খাশেরহাট ভূমি অফিসটি দালাল সিন্ডিকেট দখলে তহশিলদারের বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,  জুয়েল, রশিদ, রাকিব, মনির মৃর্ধা সহ আওয়ামীলীগের ব্যানারে থাকা একাধিক দালাল দখলে রয়েছে খাশের হাট ভূমি অফিসটি।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, তহসিলদার আব্দুস সত্তার দালালদের মূল হোতা জুয়েলের মাধ্যমে নামজারী (জমাখারি),  নালিশী ভূমির মামলা তদন্ত ও ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো আবেদনে নানাভাবে হয়রানি করে মাসের পর মাস রিপোর্ট ঝুলিয়ে রাখেন বল তথ্য পাওয়া যায়।

চরবংশী থেকে জমা খারিজ করতে আসা আলী আহমদ ও হারুনুর রশিদ  সহ একাধিক ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে একেকটি জমাখারিজে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকারও বেশি ঘুষ বাণিজ্য করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবীরও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারী চরমোহনার মন্তাজ মিয়া বলেন, ”  ১১৮৬ নং খতিয়ানের কিছু সম্পত্তি মালিক সূত্রে দখল থাকিয়া নামজারী জমা খারিজ ২৫১৫ নং সৃজনে থাকা অবস্থায় সানজিদা আক্তার আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারায় মিস ৩৯৭/ ২০২৫ইং মামলা দায়ের করেন। আদালত উক্ত মামলার নালিশী ভূমি সরজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত আব্দুস সত্তার তদন্ত পরিচালনার সময় আমাকে কোন নোটিশ না করিয়া ফাতেমা বেগমকে আমার পক্ষ দেখাইয়া নোটিশ রিসিভ করান। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি লোকমুখে জেনে তার কাছে গিয়ে সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদনের অনুরোধ করিলে তহশিলদার আব্দুস সত্তার আমাকে হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ  দাবী করে বলেন,  টাকা দিলে আমার পক্ষে প্রতিবেদন দিবেন, না হয় আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিবেন।  আমি ঘুষ না দিলে ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুস সত্তার সরজমিন তদন্ত না করে আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে আমার কাছে প্রতিনিয়ত নানাউপায়ে ঘুষ চেয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।  আমি এর সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে ঘুষখোর তহসিলদারের বিরুদ্ধে সুবিচার চাই।  তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার দাবী করছি। “

জানা যায়, আওয়ামিলীগ নেতাদের বাঁচাতে  ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ১নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি খাস জমি একাধিক আওয়ামীলীগ নেতাদের দখলে থাকায় তথ্য অধিদপ্তর আইনে আবেদন করেও গণমাধ্যমে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তহসিলদার আব্দুস সত্তার।

তথ্য সংগ্রহে গেলে দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা রামগঞ্জের জুয়েল সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তহশিলদার আব্দুস সত্তার সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, ” জুয়েল সহ যেসকল দালাল অফিসে বশত আগামীকাল থেকে আর কেউ অফিসে আসবে না।  সবাইকে নিষেধ করা হয়েছে।  আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট।  সরকারি খাস জমির কোন তথ্য দেওয়ার বিধান নেই তাই দিতে পারবোনা।”

এবিষয়ে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, ” তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আরও অভিযোগ পেয়েছি, আউটসোর্সিংয়ের লোকদের অফিসে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে।  তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD