
ক্রীড়া প্রতিবেদক দৈনিক নয়া কন্ঠকলম্বো থেকেঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে। কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি–টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
ম্যাচের ফলাফল
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৩২/৭
বাংলাদেশ: ১৬.৩ ওভারে ১৩৩/২
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী
শেষ ম্যাচটিকে অলিখিত ফাইনালই বলা হচ্ছিল, কারণ জয়ী দলই জিতত সিরিজ। আর এই অলিখিত ফাইনালে বাংলাদেশের দুই ‘হাসান’—মেহেদী হাসান ও তানজিদ হাসান ছিলেন সমানে সমান নায়ক। বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন মেহেদী, আর ব্যাট হাতে ম্যাচ শেষ করে এসেছেন তানজিদ।
মেহেদীর জাদুকরী বোলিং
বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান আজ তার আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন—৪ ওভারে মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট। শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা, দিনেশ চান্ডিমাল, আসালাঙ্কা ও নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে দেন তিনিই। স্পিনে বাঁধা পড়ে ১৩২ রানে থেমে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
তানজিদের ব্যাটে দুর্দান্ত জয়
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার পারভেজ হোসেন প্রথম বলে এলবিডব্লু হলেও দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাস ও তানজিদ হাসানের ৭৪ রানের জুটি দলকে এগিয়ে দেয়। এরপর তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করেন তানজিদ।
মাত্র ৪৭ বলে ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৩টি ছক্কা ও ৬টি চার মারেন তানজিদ। টি–টোয়েন্টিতে এটি তার ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংস। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতি রাখা আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন তিনি।
বোলিংয়ে মিশ্র চিত্র
যদিও মেহেদী, মোস্তাফিজ, শামীমরা দুর্দান্ত বোলিং করলেও শরীফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান ছিলেন ব্যতিক্রম। শরীফুল ৪ ওভারে ৫০ এবং তানজিম ২ ওভারে দেন ২৩ রান। শেষ ওভারে শরীফুল একাই দেন ২২ রান, যার মধ্যে শানাকা মারেন ২ ছক্কা ও ২ চার।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস
শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আগে কখনোই কোনো সংস্করণে শ্রীলঙ্কার মাঠে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ শুধু আত্মবিশ্বাসই ফিরে পেল না, বরং ভবিষ্যতের পথচলার জন্য শক্ত ভিতও গড়ে তুলল।