
স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ
রাজবাড়ী পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে হাসপাতাল সড়কটি অন্যতম। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে। এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়াতে বেহাল অবস্থায় হয়েছে।
সড়কের বিভিন্নস্থানে সৃষ্টি হোয়েছে বড় বড় খালা খন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভার এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়।এতে মাঝেমধ্যেই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। সড়কের মধ্যে উল্টে যাচ্ছে রিকশা,ভ্যান সহ ইজিবাইক। আহত হচ্ছে পথচারী সহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়ে বাশ,কাঁঠ ও গাছের ডালপালা দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৯জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের হাসপাতাল রোডের কাজীকান্দা সেগুনবাগিচা এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে।
রাজবাড়ী শহরের পাবলিক হেলথ থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত পুরো সড়কটাই বেহাল অবস্থা এবং খালাখন্দে ভরা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই সড়কে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা উল্টে গিয়ে ঘটেছে দুর্ঘটনা। তাই বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী বাঁশ,কাঠ ও গাছের ডালপালা দিয়ে সড়কটি আটকে দিয়েছে। এছাড়াও লাল কাপড় দিয়ে বিপজ্জনক নিশানা দিয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তিনটি মসজিদ, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল, সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা মৎস্য অফিস, অসংখ্য বেসরকারি ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিএডিসি সেচ অফিস, সারের গোডাউন, বিদুৎ অফিস, জেলা আনসার ভিডিপির কার্যালয়সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জানা গেছে, রাজবাড়ীর সজ্জনকান্দা এলাকার পাবলিক হেলথ মোড় থেকে হাসপাতাল রোড হয়ে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত সড়কটি ১ হাজার ৬৭৫ মিটার। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গর্ত। সড়কের পাশের ড্রেনও সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন। ফলে ময়লা আবর্জনায় ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
রাজবাড়ীর প্রধান সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন বা মাল বোঝায় ট্রাক চলাচল করতে না দেওয়ায় এই হাসপাতাল রোড দিয়ে ট্রাক গুলো চলাচল করে থাকে। এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করায় কয়েক বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন জায়গা খালাখন্দে পরিনত হয়ে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
এ ছাড়াও রাজবাড়ী রেলগেট থেকে নূরপুর পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ অটেরিকশা, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে থাকে। এছাড়া ড্রাইস ফ্যাক্টরি রোড, গোদারবাজার রোড, টেকনিক্যাল থেকে শ্রিপুর বাজার রোড, দক্ষিণ ভবানীপুর রোড, ধুঞ্চি রোড সহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি সড়কেরই বেহাল দশা।
রাজবাড়ী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল রোড, এতিমখানা রোড সহ আরও কয়েকটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর হাসপাতাল রোড ১৬৭৫ মিটার,পান্না চত্বর থেকে তালতলা পর্যন্ত ২১২০ মিটার এবং ২নং রেলগেট থেকে এতিমখানা রোড সংস্কারের জন্য ওয়াল্ড ব্যাংকের প্রকল্পে উপস্থাপন করা হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যায় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পটি এই মাসের মধ্যে অনুমোদন হয়ে টেন্ডার আহ্বান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, রাস্তার পাশে পানির লাইন লিকেজ ও ড্রেন থেকে পানি বের হবার কারণে রাস্তাটিতে সবসময় পানি থাকে। এছাড়া এই সড়ক দিয়ে বড় বড় ট্রাক যাওয়ার কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে । প্রতি বছর টুকটাক সংস্কার করা হলেও এবার কিছুই করা হয়নি। গতকাল এখানে একটি ইজিবাইক উল্টে যায়। পরে দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসী রাস্তাটি ব্লক করে দিয়েছে। আমরা দ্রুতই এই রাস্তাটির সংস্কার দাবি করছি।
অটোচালক রহিম বলেন, আমি অটো চালাই। কোন রুগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া যায় না।অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে হয় । আমরা চাই এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।
সেগুনবাগিচার স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আলী (কলেজ শিক্ষক)বলেন, হাসপাতাল সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে মালবাহী ট্রাক,বালুর ট্রাক সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে থাকে। এই সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা রোগী যেতে কষ্ট হয়। এখানে মাঝেমধ্যেই গাড়ি উল্টে যায়। এখানে সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া দরকার।
রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ খান বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় রাজবাড়ীতেও বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পৌর এলাকায় কয়েকটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারমধ্যে হাসপাতাল রোডটা অন্যতম। হাসপাতাল রোড, এতিমখানা রোড ও পান্নাচত্তর থেকে তালতলা রোড এই তিনটি রোডের সমন্বয়ে একটি আরইউটিডিপি প্রকল্প থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই অনুমোদন হয়ে যাবে প্রকল্পটি।প্রকল্পের অনুমোদন হলেই এই মাসের মধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করবো আমরা।