
রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
মানবতার সেবায় কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশা’ আট বছর পেরিয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান, অসচ্ছল পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা, পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা এবং দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আট বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ২৮ আগস্ট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘বর্ষবরণ ও স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা’ উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরিফ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ভগবদ্গীতা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘আলোর দিশা’র বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীকেও তাদের মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় কেক কাটার আয়োজনের পর রাতে রেলস্টেশন এলাকায় থাকা অসহায় ও পথচারীদের মধ্যে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হয়।
সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাগর বিশ্বাস বলেন, আট বছর আগে যে মানবিক স্বপ্ন নিয়ে ‘আলোর দিশা’র যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন আরও বিস্তৃত হয়েছে। আট বছর পূর্ণ করে সংগঠনটি এখন নবম বর্ষে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আলোর দিশা’র মানবিক কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে চান তারা। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতেও যেন সংগঠনটির মানবতার সেবার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং তার অনুপস্থিতিতেও এই পথচলা থেমে না যায়।
সাগর বিশ্বাস দেশের বিত্তবান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের স্বপ্ন ও শ্রমে গড়ে ওঠা এই সংগঠনকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘আলোর দিশা’ ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চায়।