
ইমদাদুল হক রানাঃ
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের যোগ্য, সৃজনশীল, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক-অভিভাবকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু শিক্ষকের নয়, পরিবারকেও সমানভাবে পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সন্তান বিদ্যালয়ে কী শিখছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন। বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালনা করা সহজ হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মমতাজ আক্তার তানিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (দুলাল) বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, ফলাফল ও শৃঙ্খলা উন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মিনাল কান্তি শিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে অভিভাবক প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল ও রফিকুল ইসলামসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা বক্তব্য দেন।
পরে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী, বৃত্তিপ্রাপ্ত ও মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সহকারী শিক্ষক চিত্তরঞ্জন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে শিক্ষক-অভিভাবকদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিকল্প নেই।