
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়ে পরিচয়হীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষের উদ্যোগ এবং ফরিদপুর সিআইডির সহযোগিতায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া ওই নারীর নাম মোছা. জোবেদা খাতুন(৬৫)। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার ওয়ারেছী পাড়া এলাকার জিয়ারউদ্দিন রহমানের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট রাজবাড়ী শহরে অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন জোবেদা খাতুন। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাচালক বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ও চালকের সহযোগিতায় আহত জোবেদাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজের নাম, ঠিকানা কিংবা পরিবারের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারছিলেন না জোবেদা। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এ অবস্থায় রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষের উদ্যোগে ফরিদপুর সিআইডির সহযোগিতা নেওয়া হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ নীলফামারী সদর উপজেলার ওয়ারেছী পাড়া এলাকায় জোবেদার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়ার তিন দিন পর পরিবারের সদস্যরা রাজবাড়ীতে এসে জোবেদা খাতুনকে বুঝে নেন। দীর্ঘদিন পর স্বজনকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জোবেদার পরিবারের সদস্যরা বলেন, দুর্ঘটনার পর পরিচয়হীন অবস্থায় তাকে কোথায় পাওয়া যাবে, তিনি কীভাবে পরিবারের কাছে ফিরবেন এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করায় তারা কৃতজ্ঞ।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন,একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে চিকিৎসা প্রদান করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে। আমি পেশাদারিত্ব নিয়ে গর্ব করি এ পেশায় আছি বলেই ভালো কাজগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি।