
স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ
রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার (৩০) বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ডাকঘরে সঞ্চয়ী মেয়াদী হিসাব খুলতে আসা গ্রাহকদের সাথে এই প্রতারণা করেন তিনি। বিষয়টি সামনে আসলে গত এক সপ্তাহ আগে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ডাক বিভাগ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিহাব রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের আয়ুব আলী মৃধার ছেলে। তিনি ২০২১ সালে থেকে ডাকঘরে লেটার রাইটার হিসেবে কাজ করে।
রাজবাড়ী ডাকঘর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ তারিখে পোস্টমাস্টার হিসেবে যোগদান করেন শামীম আহমেদ। যোগদানের পর তার কাছে একটি টুকরো কাগজের টোকেন নিয়ে এক গ্রাহক আসে পাস বইয়ের জন্য। তখন তিনি বিষয়টি তার নজরে আসে। এসময় ওই গ্রাহকের কাছে জানতে চাইলে গ্রাহক লেটার রাইটার শিহাবের কাছে থেকে টোকেন নিয়েছেন বলে জানান।
এরপর পোস্টমাস্টার শিহাবকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নানা অযুহাত দেন। এক পর্যায়ে শিহাবকে ওই গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে বললে শিহাব টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই এই ধরণের টোকেন নিয়ে আরও গ্রাহক আসতে শুরু করলে পোস্টমাস্টারের সন্দেহ হয়। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে শিহাব পলাতক রয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রধান ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায়, টুকরো কাগজের টোকেন নিয়ে ডাকঘরে অবস্থান করছেন কয়েকজন গ্রাহক।
তারা পোস্টমাস্টারের কাছে তাদের টাকা ফেরত চাচ্ছেন। অবস্থানরত গ্রাহকদের মধ্যে আইয়ুব সরদার বলেন, ‘সংসারের খরচ মিটিয়ে ২ লাখ টাকা জমিয়ে ছিলাম যাতে মেয়ের বিয়ের সময় কারও কাছে টাকা ধার করতে না হয়। এজন্য তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে তিন বছর মেয়াদী ২ লাখ টাকার সংঞ্চপত্র কেনেন চলতি বছরের ১২ মে। ১৫ দিন পর তার সঞ্চয়পত্রের পাস বই দেওয়ার কথা ছিল। তখন এসে লেটার রাইটার শিহাবের কাছে পাস বই চাইলে তিনি বলেন সার্ভার জটিলতায় কাজ করতে পারেন নি। এরপর আরও এক সপ্তাহ পর তাকে আসতে বলেন। এক সপ্তাহ পর এসে তিনি পাস বই চাইলে তাকে পরবর্তীর্তে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে বলেন। তারপর থেকে তিনি কয়েকবার এসেছেন। গত সপ্তাহ থেকে শিহাবকে না পেয়ে পোস্টমাস্টারের কাছে যান। পরে শিহাব পালিয়েছেন জানতে পারেন। আরেক ভুক্তভোগী সনদ। সনদ বিশ্বাস বলেন, তিনি দুই লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন। তিনিও পাস বই পাননি। পাস বই নিতে এসে জানতে পারেন তার টাকা জমাই হয়নি।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের বর্তমান পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমি ৬ জুলাই যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। শিহাব সরকারি কর্মচারী নন। তিনি লেটার রাইটার হিসেবে কাজ করতেন। এখন পর্যন্ত ৬০ জন গ্রাহকের ৮০ লাখ টাকার হিসাব সামনে এসেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনায় বিভাগীয় ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।