
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামে ধর্মের আড়ালে ভুয়া মাদ্রাসা রেহেনা খাতুন মডেল মাদ্রাসা নামে ডিজিটাল চাঁদাবাজি চক্র, নেপথ্যে কলসীদীঘির পাড়ের গোপন আস্তানা
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, (ইপিজেড) এবং (সি ইপিজেড) সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের বেতনের দিনগুলোতে মোড়ে মোড়ে চাদর বিছিয়ে চলছে এক ভিন্নধর্মী অর্থ আদায়। ধর্মীয় অনুভূতিকে মূলধন করে শবে বরাত, শবে মেরাজ কিংবা ঈদে মিলাদুন্নবীর মতো পবিত্র দিনগুলোকে সামনে রেখে এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে চাঁদা কালেকশন করছে সংঘবদ্ধ এক মৌলবী চক্র। তবে অনুসদ্ধানে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এই অর্থ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশেরই কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই; যা কেবলই এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানীর সুসংগঠিত ব্যবসায়িক কৌশল।
মূল আস্তানা ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অপতৎপরতার প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলসীদীঘির পাড় বাদামতলা এলাকা। ফাহিম ‘টাইম টেইলার্স’ নামক একটি দর্জির দোকানের ওপর দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি রুম ভাড়া নিয়ে ‘রেহানা খাতুন মডেল মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। সামান্য কয়েকজন শিশু-কিশোরকে জড়ো করে মাদ্রাসার আবহ তৈরি করা হলেও মূলত এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কৌশল ও সময় নির্ধারণ
ইসলাম ধর্মে যেখানে অন্যায়ভাবে ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, সেখানে ধর্মীয় নামাজের পর বা পোশাক কারখানাগুলোর বেতন প্রদানের নির্দিষ্ট দিনে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিনব এবং ‘ডিজিটাল’ নানা কৌশলে এতিমদের কথা বলে সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ।
জনমনে অসন্তোষ ও স্থানীয়দের দাবি
শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পবিত্র ধর্মীয় উৎসবের নাম ব্যবহার করে এমন অর্থ আদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করছে। এতিমখানার নামে এই অনিয়ম ও চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা