
শাহীন আলম ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধ, চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিজ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে সভাটি চলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিজ শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মানস কুমার কুন্ডু, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফয়সাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসিফ উল আলম, ফরিদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাসপাতালের অভ্যন্তর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রোগীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসনে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় হাসপাতালের আশপাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতে কোনো দালালের মাধ্যমে প্রতারিত বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় রোগীবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।