
করিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি আতাবুর গ্রেপ্তার
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর বেলপুকুরে চাঞ্চল্যকর আব্দুল করিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর পলাতক আসামি মোঃ আতাবুর রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫।
রাজশাহী জেলার বেলপুকুর থানার চাঞ্চল্যকর আব্দুল করিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর পলাতক আসামি মোঃ আতাবুর রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল করিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি আতাবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানার ভড়ুয়াপাড়া এলাকার বাদী মোঃ কালাম (৪৮) ও আসামিরা পৈতৃক সূত্রে আত্মীয়। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাদীর ভাই মোঃ আব্দুল করিম (৪০) স্বরূপনগর পুকুরপাড়ের বিলে ধান লাগাতে গেলে আসামি মারুফের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। এর জের ধরে ওইদিন দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটের দিকে আসামিরা হাসুয়া, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, ধারালো ছোরা ও বাঁশের লাঠিসহ দলবদ্ধ হয়ে ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের রফিকের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অবস্থান নেয়।
এ সময় তারা রফিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। রফিক বাইরে এসে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আসামি জিলুর রহমান অন্যদের হামলার নির্দেশ দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আসামি মাহাতাব আলী রামদা দিয়ে রফিককে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার পিঠে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
রফিকের চিৎকার শুনে তার ভাই আব্দুল করিম এগিয়ে এলে আসামি জিলুর রহমান ধারালো ছোরা দিয়ে করিমের পেটে আঘাত করে। পরে আসামি শাহাবুর হাসুয়া দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে আব্দুল করিম গুরুতর আহত হন এবং তার পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আতাবুর রহমানসহ অপর আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে রফিক ও আব্দুল করিমকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল করিম মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ কালাম বাদী হয়ে বেলপুকুর থানায় ছয়জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বেলপুকুর থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৬; এতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪/১১৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনাটি দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আতাবুর রহমান গ্রেপ্তার এড়াতে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ আতাবুর রহমানকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেলপুকুর থানা, আরএমপি, রাজশাহীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।