
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী ব্যুরো:
২৮ আগস্ট ‘২৬ শুক্রবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে এটিকে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চিড়িয়াখানায় নতুন পশুপাখি সংযোজন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ শাহজামান খান। এ সময় তাঁরা চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর সার্বিক উন্নয়ন, নতুন পশুপাখি সংযোজন ও আধুনিকায়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরবাসী রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।”
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, নগরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় নতুন পশুপাখি সংযোজন এবং আধুনিকায়নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করেছেন। এবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্টদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে নতুন রূপে সাজানোর কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ শাহজামান খান বলেন, রাসিক প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় পশুপাখি সংযোজন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি টিম নিয়ে তাঁরা চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শনে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের টিম ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। স্টাডির ভিত্তিতে চিড়িয়াখানাটি কীভাবে সাজানো হলে আরও আকর্ষণীয়, আধুনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।”
শাহজামান খান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক চিড়িয়াখানা যেভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হয়, সেই আদলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি চিড়িয়াখানাটিকে একটি আধুনিক বিনোদন ও শিক্ষামূলক স্থানে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হবে।
পরিদর্শনকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মোঃ বজলুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ সফিকুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈনসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।