
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকের সার চুরি ও বৃষ্টিতে ভিজে পঁচে নষ্ট হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার দায়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে তাৎক্ষণিক রিলিজের (স্ট্যান্ড রিলিজ) আদেশে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে ডিমোশনমূলক পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন শাহানাজকে চুয়াডাঙ্গা সদরের নতুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে বদলি করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়ন করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Release) বলে গণ্য হবেন।
এদিকে, সরকারি সারের বিশাল চালান চুরি ও বিনষ্ট হওয়ার ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্মুক্ত স্থানে সংরক্ষিত কৃষকদের ৫৩ বস্তা সার দুই দফায় চুরি এবং বৃষ্টিতে ভিজে আরও অন্তত ২০ বস্তা সার বিনষ্ট হওয়ার ভিডিও তথ্য-প্রমাণসহ স্থানীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। এতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কৃষি দপ্তরের চরম উদাসীনতা ও কৃষকদের ভোগান্তির চিত্র উঠে আসলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবাদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করল অধিদপ্তর।