
সজীব খান, চাঁদপুর
চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস (৪৫) সপরিবার আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অভিযান করছে।
এদিকে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ২৭ আগস্ট আনুমানিক দুপুর তিনটায় প্রতারক স্বর্ন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়াকৃত বাসায় সরজমিন পরিদর্শন করেন এবং ব্যাপক তল্লাশি করেন। তাকে ধরতে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের টিম ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বর্ণ ও অর্থ কেলেংকারী এড়াতে এমন আত্নগোপনের ঘটনার ঘটিয়েছে স্বর্ন ব্যবসায়ী পিন্টু দাস বলে মনে করেন চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এদিকে গত ১৯ আগস্ট থেকে তাঁর ভাড়া বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় বাসার বাড়ির মালিক আলহাজ্ব আ:গফুর সাহেবের ছোট ছেলে মোহাম্মদ রাসেল খান চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
গত ১৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির মালিক আলহাজ্ব আ:গফুর সাহেবের ছেলে রাসেল খান পিন্টু দাসের খোঁজ নিতে গিয়ে বাসার দরজায় তালা দেখতে পান। পরে তাঁর ব্যবহৃত ০১৭১৯-৫৫৭১৫২ নম্বরে ফোন করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রীভুক্ত করেন বাড়ীর মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান। জিডির নম্বর ১৩৯৬ এবং তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬।
বাড়ীর মালিকের ছেলে রাসেল খান জানান, ২৬আগষ্ট চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ তার বাড়ীতে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। গতকাল ২৭ আগষ্ট বিকেল ৩টায় চাঁদপুর ডিবি পুলিশ আত্নগোপনে থাকা পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় আবারও তল্লাশি চালায়। পুলিশ সার্বক্ষণিক আত্নগোপনে থাকা পিন্টু দাসের তথ্য পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জানা গেছে,২৬আগষ্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীসহ একদল পুলিশ পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় দরজা তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তবে পুলিশ তার বাসার ভিতরে সামান্য ফার্নিচার ছাড়া কিছুই পায়নি পুলিশ।
এদিকে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, পিন্টু দাস দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকার বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নেওয়ার পর সময়মতো তা ফেরত দিতে না পারায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ব্যবসার নামে বিভিন্ন সমিতি থেকেও তিনি ঋণ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পিন্টু দাসের কাছে তাঁদের স্বর্ণালংকার ও টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।