
বাঘারপাড়ার সীমানা ফলক ঢেকে দিলো (জাগরনীচক্র ) এনজিওর সাইনবোর্ড,
সাঈদ ইবনে হানিফ ] বাঘারপাড়া ঃ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রধান সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী শের-শাহ সড়ক। যশোর সদর উপজেলা পেরিয়ে বাঘারপাড়া উপজেলার প্রবেশমুখে ভায়না গ্রামের ‘দো-রাস্তা’ এলাকায় রয়েছে বাঘারপাড়ার সীমানা নির্দেশক একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলক। দীর্ঘদিন ধরে এই ফলকটি উপজেলা প্রবেশের পরিচিতি বহন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই নাম ফলকের সামনে জাগরনীচক্র ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও তাদের সাইনবোর্ড এমন ভাবে স্থাপন করেছে যার কারণে পথচারী এবং সাধারণ মানুষ বাঘারপাড়া স্বাগতম নাম ফলকটি দেখতে পাচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আবু তাহের সিদ্দিকীর পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি অর্থায়নে ওই স্থানে ‘স্বাগতম বাঘারপাড়া’ লেখা ফলক স্থাপন করা হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় ফলকটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে একটি এনজিওর সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারমূলক বোর্ডের আড়ালে পড়ে গেছে বাঘারপাড়ার সেই সীমানা ফলক।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন-এর একটি সাইনবোর্ড এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা বাঘারপাড়া উপজেলার সীমানা ফলকের বড় একটি অংশ আড়াল করে রেখেছে। পাশাপাশি সদর উপজেলার অংশে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দূর থেকে বাঘারপাড়া উপজেলার প্রবেশমুখের ঐতিহ্যবাহী সীমানা ফলকটি সহজে চোখে পড়ে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলার প্রবেশমুখে সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত পরিচিতিমূলক ফলক এভাবে বিজ্ঞাপন বা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের আড়ালে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি দেখার বা ফলকটি দৃশ্যমান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা পুখুরিয়া গ্রামের মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাগতম বাঘারপাড়া’ লেখা এই ফলক শুধু একটি সাইনবোর্ড নয়; এটি উপজেলার পরিচয় ও প্রবেশমুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের আড়ালে এটি ঢাকা পড়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না।
এ অবস্থায় বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সীমানা ফলকটি সম্পূর্ণ দৃশ্যমান ও দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি ফলকের সামনে স্থাপিত অপ্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং বাঘারপাড়ার ঐতিহ্যবাহী প্রবেশমুখের ‘স্বাগতম বাঘারপাড়া’ ফলকটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন । #