
গোয়ালন্দে ফারুক শেখ হত্যা: ১২ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত দুই দা
রাজবাড়ী গোয়লন্দ প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফারুক শেখ (৪৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা এবং রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বেলা সাড়ে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা এলাকার নিজ শয়নকক্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফারুক শেখকে হত্যা করা হয়। তিনি খালেক শেখের ছেলে।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন বস্তুগত ও জৈবিক আলামত সংগ্রহ করে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা নং-২১, তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), রাজবাড়ী শাহিদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা দদশাখাদ (ডিবি) ও গোয়ালন্দঘাট থানা-পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল গঠন করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখ (৪৪), রুবেল শেখ (৩০) ও **আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬)**কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক শেখ পারিবারিক সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের বিষয়কে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী রুবেল ও আলমকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। পরদিন দুপুরে রুবেল ও আলম বারেকের বাড়িতে গেলে তাদের দুটি ধারালো দা দেওয়া হয়। এরপর তারা ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত দুটি দা টয়লেটের পাশে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে গ্রেপ্তার হওয়া রুবেল ও আলমকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামিদের বাড়ি থেকে রক্তের দাগযুক্ত জিন্সপ্যান্ট ও টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
সূত্র: গোয়ালন্দঘাট থানা-পুলিশ।