মো. শারীদ মোল্লা, নয়া কণ্ঠ ডেস্কঃ
রাজবাড়ীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। দিন-রাতের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
রাজবাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৯ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। বিপরীতে পাওয়ার গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
অন্যদিকে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাহিদা প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। সেখানেও ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রাজবাড়ীর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পাটকলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত জামালপুর ইউনিয়নের একটি পাটকলে কাজ করেন প্রায় ৭২ জন শ্রমিক। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ইজিবাইক চালকরাও। দীর্ঘ সময় চার্জ দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।
রাজবাড়ী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে যে ঘাটতি রয়েছে, সেটিই মূলত লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ। তবে ঠিক কবে নাগাদ পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ।
কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে জেলার প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।