
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর বাগমারায় অভিনব কৌশলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজশাহীর বাগমারায় দীর্ঘ আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুল ইসলামকে (৪০) অভিনব কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি ছিল, হাসিবুল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পরে পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অবস্থান নিশ্চিত করে রাজধানীর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হাসিবুল ইসলাম বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়েছে। সাজা হওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
পরে তাঁর বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা পাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, হাসিবুল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
সম্প্রতি বাগমারা থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে হাসিবুলের অবস্থান শনাক্তে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রির সাইটের সন্ধান পায়। খোঁজ নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই অনলাইন ব্যবসার পরিচালক হাসিবুল ইসলাম এবং তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এরপর পুলিশ কৌশল পরিবর্তন করে ক্রেতা সেজে অনলাইনে হাসিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যোগাযোগের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
বাগমারা থানার এসআই শিহাব উদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাসিবুলের অবস্থান শনাক্তে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে কৌশলী অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাসিবুলের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা জানতেন হাসিবুল মালয়েশিয়ায় থাকেন। তিনি নিয়মিত বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। তবে ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না।
তিনি বলেন, পুলিশ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কৌশল অবলম্বন করে হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অন্যান্য আসামিদেরও এ ধরনের কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রায় আট বছর ধরে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য থানায় থাকা মামলাগুলোও আদালতের নজরে আসবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।