
নীলফামারীতে দুই এমপির উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা সভা বয়কট ৯ ইউপি চেয়ারম্যানের
মোঃ সবুজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা বয়কট করেছেন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় জনপ্রতিনিধিদের এমন গণ-অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সবার মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-০৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মোন্তাকিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না। এছাড়াও সভায় কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মোন্তাকিম উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মতো স্পর্শকাতর সভায় ৯টি ইউনিয়নের কোনো চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের সমস্যা ও জননিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনার জন্য জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি অপরিহার্য ছিল, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই পরিচয় দেয়।
সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না তার বক্তব্যে বলেন, “একটি শান্তিময় উপজেলা গড়তে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।” জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি স্থানীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বয়কটকারী চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ এবং উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে তারা এই সভা বর্জন করেছেন। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। এছাড়া টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদানে টালবাহানা, ইউনিয়ন পরিষদের ১% বিলের টাকা ছাড় দিতে অনীহা এবং হাট-বাজারের টাকা হিস্যা অনুযায়ী প্রদান না করায় তারা ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “আমি সভার জন্য সবাইকে যথাসময়ে নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। তারা কেন আসেননি তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।” অর্থ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, টিআর, কাবিখা ও ১% বিলের টাকা কাজ সঠিকভাবে খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।