
মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা):
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে এক ওরিয়েন্টেশন ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অলি মিয়া। এছাড়া সভায় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, মাঠকর্মী এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন জানান, আগামী ২৮শে জুন শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ১৯২টি নিয়মিত ইপিআই আ/রি-কেন্দ্র এবং ১টি বিশেষ অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২,৪৭৫ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৯,২৫০ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উপজেলায় সর্বমোট ২১,৭২৫ জন শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৭৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার মোট ১,৮৪,৭৭৯ জন জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ক্যাম্পেইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে ২৩ জন মাঠকর্মী (এইচ.এ), ২৩ জন এফডব্লিউএ, ১৯ জন সিএইচসিপি এবং ২৪ জন প্রথম সারির তত্ত্বাবধায়ক মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও কেন্দ্রগুলোতে সার্বিক সহায়তার জন্য মোট ৩৮৬ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের সুবিধার্থে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নির্ধারিত স্থানে অতিরিক্ত ক্যাপসুলের বিশেষ বুথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সভায় অতিথি শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ অলি মিয়া বলেন, “শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অপরিহার্য। এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” তিনি প্রতিটি অভিভাবককে তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে ২৩ জুন মাইক্রোপ্লান প্রণয়ন এবং ২৫ জুন উপজেলা অ্যাডভোকেসী মিটিং ও সিএস অফিসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রেরণ সম্পন্ন হয়েছে। ২১ ও ২২ জুন দুই দিনব্যাপী ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের ওরিয়েন্টেশনও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।