
সুজন খন্দকার রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীতে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রুপল শেখ (৩০) নামে এক ভ্যান চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে আজ রবিবার (১৮ই মে) দুপুরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
এসময় এলাকাবাসী আসামী মুক্তারের বাড়ীঘর ঘেরাও করে ভাংচুর শুরু করলে রাজবাড়ী সদর থানার এস আই সাব্বির বাঁধা দিতে গেলে এলাকাবাসী মারমুখী আক্রমণ করে তাকে মারাত্বক ভাবে আহত করে। পরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল এসে আহত এস আই সাব্বিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করলে আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার ১৬ই মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। নিহত রুপল রাজাপুর গ্রামের জিন্নাত শেখের ছেলে। তিনি ভ্যান চালিয়ে এবং শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার সাত বছর ও দুই বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে।
রুপলের বাবা জিন্নাত শেখ বলেন, রাজাপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ দিয়ে মুক্তারের পরিবারের লোকজন আমার ছেলে রুপলকে মারধর করেন। তবে আমার ছেলের মোবাইল চেক করে তারা কোনো ভিডিও পায়নি। সেদিন মার খেয়ে পরদিন বুধবার সকালে রুপল ঢাকায় চলে যায়। এরপর স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দিলে রুপলের মা ফোন করে তাকে ঢাকা থেকে বাড়ি আনে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি আসে রুপল। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি নিয়ে একই গ্রামের রাফিজুলদের বাড়িতে শালিস হওয়ার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে রাফিজুল, রাসেল, সৌরভসহ ৭ থেকে ৮ জন এসে রুপলকে ঘরের ভেতর থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। রুপলকে রাফিজুলদের বাড়িতে নিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে বেধড়ক মারধর করে হাড়গোড় ভেঙে দিয়ে হত্যা করে। এরপর তারা রুপলকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
রুপলের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। তাদের এখন কী হবে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, রূপলের লাশ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই রুপলের মামা কালাম মোল্লা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।