
শেরপুরে জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
মোঃ মাকসুদ
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুর শহরের ঢাকলহাটি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী। এ সময় তাঁর বৃদ্ধা মা লক্ষ্মী রানী নন্দী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী অভিযোগ করেন, তিনি ও তাঁর পরিবার শেরপুর সদর থানার ঢাকলহাটি এলাকায় পৈতৃক ও স্বত্ব-দখলীয় সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মো. রমজান আলী মোল্লা, মো. মনি মোল্লাসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে একটি একচালা ঘর ভাঙচুর করেন। পরে ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল তছনছ করে সেগুলো পিকআপে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাণেশ চন্দ্র নন্দীর দাবি, এ সময় তিনি ও পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে এবং শেরপুর সদর থানাকেও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণেশ চন্দ্র নন্দী বলেন, বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রমজান আলী মোল্লা ও মো. মনি মোল্লার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।