
মোঃ আজমল হোসেন বালিয়াকান্দি রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সড়কপথে বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা মণ্ডলের বাড়িতে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে নিজ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
নিহত কনিকা মণ্ডল বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান।
নিহতের ভাসুর সমীর মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কনিকার কন্যাসন্তান প্রসব করান। অপারেশনের পরদিন থেকেই তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।
পরে ৩ জুলাই কনিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, ৭ জুলাই চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। ওইদিনই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়।
এরপর দীর্ঘদিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দিবাগত রাতে কনিকার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে কনিকা মণ্ডলের বাড়িতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস. এম. মাসুদ, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।