
নাসরিন সুলতানা রহমানঃ
পৃথিবীর আনাচে-কানাচে অজস্র রঙিন
অক্ষরে লিখব আমি আমার জন্মের কথা –
কখনো সেজে উঠবে, কখনো বেজে উঠবে;
অসংখ্য বাক্যের চক্রে মনের কথায় সেথা।
কখনো কবিতা, কখনো গল্প, কখনো উপন্যাসে,
কখনো বা হৃদয় স্পর্শের প্রচ্ছদ এঁকে ভালোবেসে।
সেদিন তো আসবেই, আমার চক্ষুতে করিবে তন্দ্রা ভর,
আমার সকল আপন মানবী হতে ছিন্ন হয়ে হবো পর।
সেদিন না হয় জেগে উঠবে আমার কালো কালিতে লেখা অক্ষরগুলি,
আমার নিস্তেজ দেহের মাঝে সঞ্জীবিত হবে আমার লেখা কবিতাগুলি।
আমি শতবার জন্ম নিব, আত্মকে আত্মিক মিলনে সাজাব।
কখনো হাসব, কখনো বা দুঃখের উপর ছাউনি দিয়ে আবার হাসব।
পাঠকের অফুরন্ত ভালোবাসায় আমি আবার জেগে উঠবো,
তন্দ্রাবিহীন রাতের আঁধারে ভেবে কবিতায় পাগল হবো।
আমার সুখী হওয়ার পথে যে বাঁধার মানব থাকিবে,
সে ক্ষতবিক্ষত রক্তের দেহে
কখনো সে হবে চির দোষী-
জগতের আত্মতুষ্টিহী কলহে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহে।
আমি একই বসন্তে নন্দিনী হয়ে সেজে উঠবো শতবার,
আমি একই বসন্তের তরঙ্গে আপাদমস্তক হবো বার বার।
কখনো বা আমি হয়ে তীর্থের কাক কল্পনাতে দিব ঝাঁপ।
আমি আটাশিতে খুঁজে নিব যৌবনের গান,
আঠারোতে পৌঁছে যাব নিতে আটাশির ঘ্রাণ।
আমার অতীতে গাঁথা তাজা ফুলের মালারাও
জেগে উঠবে স্পর্শে, গন্ধ দিবে মাতুলালয়ে।
ব্যর্থ প্রেমিকের খাতা উঠবে আমার নামে,
আমি কখনো সাজব নায়ক শব্দের প্রেমে।
আমার আত্মজয়ে নিস্তব্ধ সুরে জাগ্রত শিল্পচিত্রে দান,
আমার মৃত্যুর পরেও শব্দে বেঁচে থাকার অভিমান।
অতীতের প্রতীকে জ্বলবে অনির্বাণ ক্ষণজন্ম –
অক্ষরের সাজে ঘটবে আমার যুগে যুগে অনন্ত পুনর্জন্ম।
আমি কবিতা নয়, আমি কবিতার বুকের পিতা- কবি,
শ্রুতিতো কণ্ঠে বিচিত্র টেনে আঁকি পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি।