
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা খাদ্য গুদামে চাল প্রবেশ ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চালবোঝাই পাঁচটি ট্রাক আটকের পর কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে স্থানীয়দের সামনে আসে নানা অসঙ্গতির তথ্য। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নওহাটা পুরাতন বাজারের ওএমএস ডিলার মমিনুল ইসলাম মিলন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মাসুম দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ও চাল সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি তিনি নিজেই চাল সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে গুদামে ৩০ কেজি ওজনের ৬৬৭ বস্তা চাল নিয়ে মোট পাঁচটি ট্রাক প্রবেশ করে। এ সময় ওএমএস ডিলার মমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন ট্রাকগুলো আটক করে চালানের কাগজপত্র দেখতে চান। পরে তারা দেখতে পান, চালানপত্রে ‘মাসুম ট্রেডার্স’, খাজানগর, কুষ্টিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে এবং প্রতিটি ট্রাকে একই পরিমাণ চাল সরবরাহের হিসাব দেখানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, চালানপত্রে নিরাপত্তা প্রহরী মাসুমের স্বাক্ষরও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিরাপত্তা প্রহরী কীভাবে সরাসরি চাল সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
এ বিষয়ে রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তা প্রহরীর এ ধরনের ঘটনায় আর কারা কারা জড়িত থাকতে পারে সে বিষয়ে স্থানীয়রা তদন্তের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে ।