
স্টাফ রিপোর্টার,রাজবাড়ী কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ
আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে ঘিরে রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুর হাট প্রস্তুত হচ্ছে জোরেশোরে। সরকারি হিসেবে রাজবাড়ী অঞ্চলে এবার পশুর কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কিন্তু সেই পরিসংখ্যানের আড়ালে রাজবাড়ী খামারিদের বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, খামার পরিচালনার বাড়তি ব্যয় এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। অনেক ক্ষুদ্র খামারি ইতোমধ্যে খামার ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ভবিষ্যতে পশু পালনের আগ্রহও হারাচ্ছেন।
রাজবাড়ী বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, এবার কোরবানির জন্য দেশি জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। অধিকাংশ খামারেই গরু মোটাতাজাকরণে প্রাকৃতিক খাদ্যের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। তবে খাদ্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই প্রস্তুতিই এখন বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামারিদের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরেই খড়, ভুষি, খৈল ও দানাদার খাবারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রতিটি গরুর পেছনে এখন প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খাদ্য ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
মুলঘর ইউনিয়নে ক্ষুদ্র খামারি আলতাফ বলেন, দানাদার খাবারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগ্রহ থাকলেও মানুষ আর খামার টিকিয়ে রাখতে পারবে না। একটি গরুকে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার খাবার খাওয়াতে হয়। এটা কোথা থেকে দেবে মানুষ? খামার কমে যাচ্ছে দিন দিন।
আরেক খামারি আবুল জানান, শুধু খাদ্যের দাম নয়, খামার পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রতি মাসে অন্তত ৫-৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, কোরবানির সময় বাজারে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পান না। উৎপাদন খরচ বাড়লেও শেষ পর্যন্ত লাভের বড় অংশ চলে যায় ব্যবসায়ী ও পাইকারদের হাতে। ফলে মৌসুম শেষে অনেক খামারির হাতেই থেকে যায় ঋণের বোঝা। তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, উৎপাদনের দিক থেকে এবার বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে রাজবাড়ীর খামারিরা।
রাজবাড়ী জেলায় আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদা প্রায় ৫৫ হাজার। তবে এই চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে প্রায় ৭০ হাজার গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করেছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় পর্যাপ্ত পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, এবার স্থানীয় খামারিরা তুলনামূলক বেশি সচেতন। হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণের প্রবণতা বেড়েছে।
পশুর হাটে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাল টাকা প্রতিরোধে পশুর হাটে নজর রাখা হবে। এছাড়া পশু ও মানুষের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থাও রাখা হবে।