
মো.শারীদ মোল্লা, ঢাকা
রাজধানীর গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।
বুধবার রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোড (আরআরআর)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সাইফুল আলম বলেন, নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্টসংখ্যক বাস, প্রশিক্ষিত চালক এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি কোম্পানির অধীনে গণপরিবহন পরিচালনা করতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি রুটে ২০০ থেকে ৫০০ বাস নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট স্টপেজে সারিবদ্ধভাবে ওঠানামা করবেন, ই-টিকিটিং চালু হবে এবং যানজট কমবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিবহন খাত পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক না হওয়ায় যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা রয়ে গেছে। এ খাত সংস্কারে সরকারের কাছে দুটি বিষয়ে সহায়তা চান তিনি—প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বাস আমদানিতে করছাড় বা প্রণোদনা দেওয়া।
সভায় জানানো হয়, ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস বা উন্নত মানের রিকন্ডিশন্ড বাস চালু করা গেলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং পরিবেশ দূষণ কমবে। এ জন্য বাস আমদানির নীতিমালায় কিছুটা শিথিলতা আনার প্রয়োজন রয়েছে।
সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বাস অবস্থান করছে, যা যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় বাস পার্কিং করা হচ্ছে, যা নগরজীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ সমস্যার সমাধানে পর্যায়ক্রমভিত্তিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্দিষ্টসংখ্যক বাস টার্মিনালে থাকবে এবং বাকিগুলো নিজস্ব ডিপো বা নির্ধারিত পার্কিংয়ে রাখা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস চলাচল করবে। সরকার জায়গা বরাদ্দ দিলে পরিবহন মালিকরা ডিপোর জন্য ভাড়া বা টোল দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ দোকান, টোকেন বাণিজ্য এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিকে বিশৃঙ্খলার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবের আড়ালে চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাউন্টার খুলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধে অভিযান জোরদার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বহুতল আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে সীমিত জায়গায় অধিকসংখ্যক বাস ব্যবস্থাপনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যেও কিছু অনিয়ম রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, শুধু মালিকদের একার পক্ষে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। পুলিশ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেনসহ অন্যান্য নেতারা। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং পরিবহন নেতারা তার জবাব দেন।