
নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রোগীকে সুস্থ মানুষের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আক্রান্ত রোগীদের স্বজনরা জানান, শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশির মাধ্যমে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। কয়েক দিনের মধ্যে শরীরে লালচে র্যাশ বা গুটি দেখা দেয়। অনেকেই প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকাদানই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।