
শাহীন আলম ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরে সুমাইয়া (১৫) নামে এক কিশোরীকে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মাহেন্দ্রগাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোনের পর পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাহেন্দ্রচালকসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার ও দুই যুবককে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, সুমাইয়া ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বর্তমানে তার পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় দাদি ও ফুফুর সঙ্গে বসবাস করত সে। তার বাবা মমিদুল ইসলাম ওরফে সানবির একটি মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতের দিকে দাদি ও ফুফুর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের পর সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে ধুলদি এলাকার পলাশ ওরফে পাগলা বাবা ফকিরের বাড়িতে যায়। রাত বেশি হওয়ায় তাকে পরদিন সকালে আসতে বলা হয়।
পরে ধুলদি স্ট্যান্ডে গিয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফরিদপুরগামী একটি মাহেন্দ্রগাড়িতে ওঠে সে। গাড়িটির চালক ছিলেন ইকবাল (৩২) এবং তার সঙ্গে ছিলেন মজিদ বেপারী (২৯)। কিশোরী থানায় যাওয়ার কথা জানালে তাকে থানায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়িতে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পথে ফরিদপুর-ভাঙ্গা সড়কের মোড় এলাকায় তারা খাবার খান। খাবার শেষে কিশোরী থানায় যেতে চাইলে তাকে রাতে থানা খোলা না থাকার কথা জানিয়ে পরদিন সকালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাকে সঙ্গে করে একটি বাড়ির দিকে নেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাহেন্দ্রটি ইকবালের বাড়ির পরিবর্তে মজিদ বেপারীর বিল মাহমুদপুর এলাকার বাড়ির দিকে যায়। রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছালে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়িটি থামান। গাড়ির ভেতরে কিশোরীকে দেখতে পেয়ে তারা ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি কিশোরীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন বলে পুলিশের দাবি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরী ও দুই যুবককে থানায় নিয়ে যায়।
বর্তমানে কিশোরীকে থানার নারী ডেস্কে রাখা হয়েছে। আটক দুই যুবক পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।