
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাফল্য
মোঃ আজমল হোসেন প্রতিনিধ বালিয়াকান্দি রাজবাড়ী ঃ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাসে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সীমিত জনবল ও চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি বহুমুখী স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর বিভাগে সেবা নিয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪২ জন। ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৮ জন এবং জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১২ হাজার ১৯৬ জন।
এ সময়ে ১৯৫টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ৩৫টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। গর্ভকালীন সেবা পেয়েছেন ৪ হাজার ২৫৬ জন এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা পেয়েছেন ২৭৮ জন মা।
এছাড়া, ৫২০ জনকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ৭ হাজার ৯৫০ জনের ল্যাব পরীক্ষা এবং ১ হাজার ৫৪০ জনের ইসিজি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভায়া ও ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্তকরণ সেবা পেয়েছেন ৭৭৬ জন নারী।
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম প্রশংসিত হচ্ছে।
গ্রাম পর্যায়ে নবজাতক শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ২ হাজার ৭৬০ জনকে শতভাগ টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আলোচিত হাম টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ২২ হাজার ১৫৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ। এছাড়া ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ২৪ হাজার ১১৭ জনকে শতভাগ সেবা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর এই সরকারই প্রথম নিয়মিতভাবে কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ২ মাস ২৩ দিনে ৬০৯ জনকে এ সেবা দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কামড়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য এন্টিভেনামও মজুত রয়েছে।
উপজেলার সাব-সেন্টারগুলোতে সেবা নিয়েছেন ৩৯ হাজার ৪০৫ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৬৭৫ জন।
৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ৫০ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, জেনারেটরের জ্বালানি খরচের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বর্তমান মাননীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাইস্পিড সৌর প্যানেল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব কার্যক্রম ও সাফল্য জেলার উপজেলা পর্যায়ে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন তথ্য ও কার্যক্রম সরকারি অনলাইন তথ্যব্যবস্থা DHIS2-এ নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকার, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে উপজেলা পর্যায়ে আরও উন্নত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে।