
মোঃ শাহাবউদ্দিন ইসলাম আক্কেলপুর প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটে বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্যামলী পরিবহনের এক চালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। শনিবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা শহরের পাঁচুর মোড় ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তাঁরা প্রতিবাদ জানান।
অবরোধের ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়, আবার কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প যানবাহন কিংবা হেঁটে যাওয়ার পথ বেছে নেন।
পরিবহনশ্রমিকদের দাবি, সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকায় পৌঁছালে বিজিবির একটি গাড়িকে সাইড দেওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বাসটি থামিয়ে চালক হাসান আলী ও তাঁর সহকারী সাদ্দাম হোসেনকে কয়েকজন বিজিবি সদস্য মারধর করেন এবং বাসের কাগজপত্র নিয়ে যান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শ্রমিকেরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিক সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আবদুল মজিদ বলেন, বাস ও সিএনজি আড়াআড়িভাবে রেখে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রধান সড়কে ছোট যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলামও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানানো যেত, কিন্তু সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা উচিত হয়নি।
পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহনশ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং একাধিকবার সাইড চাইলেও চালক সাড়া দেননি। পরে শহরের কাছে বাসটি থামিয়ে কাগজপত্র নেওয়া হয়। চালক ও সহকারীকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে এবং বাসের কাগজপত্র থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
ছবি সংগৃহীত।