
স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকার;
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য রাজবাড়ী থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে দাখিল করেছেন ৮জন নারী প্রার্থী।
তারা হলেন- রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার পিয়া, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া আক্তার স্মৃতি, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ফারজানা লিপি, ছাত্রদল নেত্রী পুনম মৃধা, সাকিলা স্বর্ণালী ননী, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম গোলাম মোস্তফার কন্যা মনিরা মোস্তফা ওলকা এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি
জানা গেছে, ইয়াছমিন আক্তার পিয়া রাজবাড়ী পৌর শহরের সেগুন বাগান এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত। তিনি ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভাবে কাজ করছেন। ইয়াছমিন আক্তার পিয়া রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জামা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাজবাড়ী পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের
সাবেক দুই বারের পৌর কাউন্সিলর। এছাড়াও ডেইজি রাজবাড়ী জেলার একজন জয়িতা। ডেইজির স্বামী এস এম সামসুল আলম বাবলু ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। ২০১২ সালের ২৩শে আগস্ট গভীর রাতে রাজবাড়ী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে রাস্তার ওপর একদল দুর্বৃত্ত সামসুল আলম বাবলুকে গুলি করে হত্যা করে।ও জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে রাজবাড়ীতে সম্মুখ সারিতে থেকে অংশগ্রহণ করেছেন। গত ১৭বছর আওয়ামী লীগ আমলে বহু হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাবরণ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি বলেন, আমি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি।
আশা করি দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।
অপরদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ জমা দিয়েছেন সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। তিনি রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি জিয়া সাইবার ফোর্স (জেড সি এফ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়ে ফেসবুকে লেখায় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ৪মাস জেল খাটতে হয় সোনিয়াকে। জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট বিরোধী
আন্দোলনে রাজবাড়ীতে সম্মুখ সারিতে থেকে অংশগ্রহণ করেন এবং নেতৃত্ব দেন সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় তাকে ১৭ দিন কারাবরণ একটি করতে হয়। সোনিয়া রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স ক্লাব নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি রক্তকন্যা হিসেবে পরিচিত।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে দাখিল করেছেন ফারজানা লিপি। ছাত্রদলের প্যানেল থেকে তিনি রাজবাড়ী সরকারী কলেজের নির্বাচিত এজিএস ছিলেন। এরপর জেলা ছাত্রদল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কৃষক দলে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি পল্টনের দলীয় অফিসের জিয়া লাইব্রেরীর দায়িত্ব পালন করছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও জিয়া সাইবার ফোর্স ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নারী নেত্রী পুনম মৃধা সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজবাড়ী জেলার ছাত্রদল থেকে উঠে আসা পুনম মৃধা উপজেলা, জেলা এবং ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সমাবেশে তার উপস্থিতি ছিলো প্রশংসনীয়। দলের দুঃসময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজপথে বিএনপির একজন নারী সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ চালিয়েছেন।
বিএনপি করার কারনে চাকুরী থেকে বরখাস্ত হয়েছেন, স্থানীয় ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, তার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে, ঘর বাড়ি ছেড়ে পলায়ন করতে বাধ্য হন।
অপরদিকে রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম গোলাম মোস্তফার মেয়ে মনিরা মোস্তফা ওলকা সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন।
এছাড়াও রাজবাড়ী জেলার মেয়ে সাকিলা স্বর্নালী ননী মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন গাজীর মেয়ে।