
স্টাফ রিপোর্টার :
আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৫ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী লালন মেলা। এই মহাসমারোহে যোগ দিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত-অনুসারীরা দলে দলে রওনা হয়েছেন সাঁইজির দরবারে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়াগামী যতগুলো ট্রেন যাচ্ছে সকল ট্রেনের লালন ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে লক্ষ করা গেছে এবং ট্রেনের ছাদ ও ইঞ্জিনের সামনে-পেছনেও মানুষজন উঠছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অনেকে ট্রেনে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ নির্ধারিত বগির ভেতরে পা রাখার জায়গাও নেই। কেউ হাতে একতারা, কেউ গলায় গামছা জড়িয়ে গাইছেন— “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”— এমন দৃশ্যে মুখর পুরো স্টেশন এলাকা।
ভক্তদের অনেকে জানিয়েছেন, প্রতি বছর লালন উৎসবে যোগ দিতে ছেঁউড়িয়া যাওয়াই তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। যাত্রাপথের কষ্ট, যানজট বা ট্রেনের ভিড়— কিছুই তাদের এই আধ্যাত্মিক টানে বাধা দিতে পারে না।
বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভক্তদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রেনের ছাদে ওঠা ঠেকানো যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল, ফকির, সুফি ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন। মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে লালনের গান, দর্শন ও মানবধর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, বাউল গান পরিবেশনা এবং আখড়াবাড়ির ঐতিহ্যবাহী সেমিনার।