
তারিকুল ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ
বুকভরা স্বপ্ন নয়, বুকভরা যন্ত্রণাই আজ তার সঙ্গী। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশু জয়ন্ত কুমার গোপাল যখন হঠাৎ চুপ করে বসে পড়ে, চোখ ভিজে ওঠে, বুক চেপে ধরে— তখন যেন থমকে যায় পুরো পৃথিবী।
এই বয়সে যেখানে খেলাধুলা, হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেখানে জয়ন্তর দিন কাটে ব্যথা আর শ্বাসকষ্টের ভেতর দিয়ে। মাঝেমধ্যেই হঠাৎ কেঁদে ওঠে, বুক ধড়ফড় করে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়— কাউকে কিছু বোঝাতে পারে না। কারণ, তার ছোট্ট হৃদয়ে রয়েছে একটি ছিদ্র। সে যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরে— একটি ভাঙা হৃদয় নিয়ে বাঁচতে শিখে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
জয়ন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার এলাকার একটি জরাজীর্ণ ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। তার বাবা জয় কুমার পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে অস্থায়ীভাবে কাজ করেন তিনি। তার মাসিক আয় মাত্র কয়েক হাজার টাকা। সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে জয়ন্তর চিকিৎসা হয়ে উঠেছে প্রায় দুঃস্বপ্ন।
জয়ন্ত বাচতে চায়,সে এখানো হাসে, বুঝতে পারেনা তার কঠিন রোগের কথা।তবে হঠাৎ হঠাৎ চুপ করে বসে পড়ে বলে—
“আমার বুকটা ব্যথা করে।শুধুমাত্র চিকিৎসার অভাবে থমকে যাচ্ছে তার শৈশবের দূরন্তপনা।
ঢাকায় শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ ইলিয়াস পাটোয়ারী জয়ন্তকে দেখে নিশ্চিত করেছেন— তার হৃদযন্ত্রে একটি ছিদ্র রয়েছে।ডাক্তারদের হিসেব অনুযায়ী, অপারেশনসহ চিকিৎসা ব্যয় আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা হতে পারে।
জয়ন্তর বাবা-মা জানান,সন্তানের জীবন বাঁচাতে আজ তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা সমাজের সহানুভূতির ভিক্ষা চান, কিছু অর্থ সাহায্য চান।চিকিৎসার মাধ্যমে জয়ন্তের বুকের ছিদ্র বন্ধ করা সম্ভব; শুধু প্রয়োজন কিছু হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা।
সাহায্য পাঠানোর তথ্য:
নাম: জয় কুমার (জয়ন্তর বাবা)
ঠিকানা: লালন শাহ হল সংলগ্ন পকেট গেট (শেখপাড়া বাজার), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
মোবাইল: ০১৩০৪৮৬৬০১৪ (রকেট/বিকাশ)
সকলের সামান্য সহযোগিতায় পারে কঠিন রোগে আক্রান্ত শিশু জয়ন্তকে সুস্থ ও সুন্দর একটা জীবন দিতে।