
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজবাড়ীর কালুখালীতে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম খান (৬০) নামে এক ব্যক্তি কে মারপিট করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহতের মেয়ে মোছা. রুনা খাতুন (১৯)।
অভিযোগে বলা হয়, নিহত নজরুল ইসলাম খান (৬৫) কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুনা খাতুন তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত তুহিন সরদার (২৩) ও গোলাপি আক্তারের (২৮) সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়।
লিখিত অভিযোগে রুনা খাতুন দাবি করেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির উঠানে এসে তার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় তিনি ও তার বাবা নজরুল ইসলাম খান তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গোলাপি আক্তার নজরুল ইসলাম খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখ চেপে ধরেন এবং তার নাকে আঘাত করেন। এতে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে রুনা খাতুনের মা জোহরা বেগম তাদের বাধা দিতে গেলে তুহিন সরদার রুনাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাবাকে রক্ষা করতে রুনা খাতুন এগিয়ে এলে গোলাপি আক্তার নজরুল ইসলাম খানকে ফের আঘাত করেন। এরপর তুহিন সরদার মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে নজরুল ইসলাম খানের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তার মেয়ে। এতে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণসহ তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে ডাকচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা নজরুল ইসলাম খানকে গুরুতর আহত অবস্থায় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে কালুখালী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে রুনা খাতুন বলেন, বাবাকে মারধরের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।