
সঞ্জু বনিক সৌরভ,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের পর অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সানোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে শিশুটির বাবা মাসুদ আলী বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট তেঁতুলিয়ার টাইয়াগছ এলাকায় শিশুটির সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি আপোষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা ঝাড়ু ও জুতা হাতে বিক্ষোভ করেন। পরে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের শালবাহান ইউনিয়নের রবীন্দ্র সরণী বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মামলা করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধেও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং মামলা না করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে সুলতানা রাজিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
অবরোধের খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, থানার ওসি লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ইউএনও আনোয়ার হোসাইন জানান, শিশুটির পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিবেশী একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে সানোয়ার হোসেনকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।