1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
জ্বালানি সংকটেও জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফরিদপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির মৃত্যু, পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগ রাজবাড়ীতে নারীকে লাঞ্ছনার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা ভূঞাপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন, প্রেমিক পলাতক রাজবাড়ীতে গাঁজাসহ ৩ যুবক আটক রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক, রাসেল আলীর নেতৃত্বে গাঁজাসহ আটক ৩ থানচি-বংকুপাড়া সড়কে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন গোমস্তাপুরে সড়কের পাশে অটো রাইস মিল নির্মাণ, সড়কে বালু-নির্মাণসামগ্রী—দুর্ঘটনার শঙ্কা!

হিলি স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ, অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা!

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

সাকিব হাসান নাইম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

 

 

ভারতে ট্রাকে পণ্য পরিবহনে নতুন ওজনসীমা নির্ধারণের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে পণ্যবাহী কোনো ট্রাক আসা-যাওয়া করছে না। নতুন ওজনসীমার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

 

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রাকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন ওজনসীমা নির্ধারণ করে রোববার থেকে তা কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৬ চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চ ৩০ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। অথচ আগে এসব ট্রাকে প্রায় ৩০ টন এবং ৪০ থেকে ৪৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা হতো।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রতিটি ট্রাকে আগের তুলনায় কম পণ্য পরিবহন করতে হবে। একই পরিমাণ পণ্য পরিবহনে বাড়তি ট্রাক প্রয়োজন হবে, ফলে পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হবে।

 

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরে একই ধরনের ওজনসীমা কার্যকর না থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন বলেও আশঙ্কা করছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

 

এ পরিস্থিতিতে নতুন ওজনসীমা প্রত্যাহারের দাবিতে ভারতের হিলি বন্দরের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে। রোববার সকাল থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো পণ্য রফতানি এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে কোনো পণ্য আমদানি হচ্ছে না।

 

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক কার্তিক চন্দ্র বলেন, ওভারলোডিং বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন। এতে হঠাৎ করেই পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

তিনি বলেন, তার গমের একটি চালান রোববার দেশে প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে ট্রাকগুলো সীমান্ত পার হতে পারেনি। একটি কনসাইনমেন্টের আটটি ট্রাক ইতোমধ্যে দেশে প্রবেশ করলেও আরও তিন থেকে চারটি ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে আটকে রয়েছে। সেগুলো না আসা পর্যন্ত পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

কার্তিক চন্দ্র আরও বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, আপাতত কোনো গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে না। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে বন্দরে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হচ্ছে। নতুন ওজনসীমা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হলে আমদানি ব্যয়ও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

 

হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম জানান, ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন চিঠির মাধ্যমে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখার বিষয়টি জানিয়েছে।

 

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে—এমন দাবি তুলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে সকাল থেকেই দুদেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

 

তবে বন্দরের অভ্যন্তরে আগে আমদানি হওয়া পণ্য খালাস ও ডেলিভারির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান শাহীনুর ইসলাম। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে পুনরায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

 

অন্যদিকে, পণ্য বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপারে কোনো প্রভাব পড়েনি। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া জানান, রোববার সকাল থেকেও বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত যাত্রী পারাপার চলবে।

 

ফলে নতুন ওজনসীমা নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটে হিলি স্থলবন্দরের পণ্য বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও যাত্রী পারাপার ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সচল রয়েছে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD