
শাহীন আলম ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাঁদনী বেগম নামের এক প্রসূতি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন কন্যাসন্তান ও দুইজন পুত্রসন্তান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রসববেদনা নিয়ে চাঁদনী বেগম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর দুপুর ২টা ৭ মিনিট থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তিনি একে একে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। অকালপ্রসবের কারণে নবজাতকদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। শিশুগুলোর ওজন যথাক্রমে ৩৪০ গ্রাম, ৬০০ গ্রাম, ৭২০ গ্রাম ও ৮১৫ গ্রাম।
হাসপাতালের স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, মাত্র সাত মাস বয়সে জন্ম হওয়ায় কোনো শিশুরই ওজন ও গঠন পরিপূর্ণ হয়নি। এমনকি কয়েটির এখনো চোখও ফোটেনি। ফলে নবজাতকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
চাঁদনী বেগমের বাবা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, প্রসববেদনা উঠলে দুপুরে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। তবে দুঃখজনকভাবে একটি সন্তান ইতিমধ্যেই মারা গেছে। বাকি চারজন এবং মা চাঁদনী বেগম বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার সাথে জাহাঙ্গীর মোল্লার মেয়ে চাঁদনী বেগমের বিয়ে হয়। চাঁদনী বর্তমানে একটি কলেজের স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এটিই তার প্রথম সন্তান প্রসবের ঘটনা।
বর্তমানে মা ও বেঁচে থাকা চার শিশুর নিবিড় চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।