1. sheikhrobirobi008@gmail.com : dailynayakontho :
  2. reporter3@dailynayakontho.com : nayakantho3941 :
  3. nayakontho@gmail.com : nayakontho :
  4. admin@dailynayakontho.com : unikbd :
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিকল্প জ্বালানি উৎসে সাড়া অনেক, তবে বিলম্বের শঙ্কা শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব উপলক্ষে পূজায় আগত ভক্তদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে রাসিক প্রশাসক।    রাজশাহীতে বিশেষ কল্যাণসভায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল। ইরান যুদ্ধ যেভাবে শেষ হতে পারে কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক গবেষকের কলাম ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে দালালই ভরসা! হাসিনা আমলের হেলমেট বাহিনীই এখনকার গুপ্ত বাহিনী’: মিজানুর রহমান মিনু।   কালুখালী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন। জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রবাসীর পরিবারের উপর হামলা বাড়িঘর ভাংচুর। সৌদি আরবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত। রাজশাহীতে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন।

বিকল্প জ্বালানি উৎসে সাড়া অনেক, তবে বিলম্বের শঙ্কা

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

মো. শারীদ মোল্লা, নয়া কণ্ঠ ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল–গ্যাস আমদানির চেষ্টা চালালেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি মিলেছে খুব কম। একই ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রেও। ফলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা শুরু হলেও একই সঙ্গে অন্যান্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যদিও ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাহাজ জ্বালানি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব, বাংলাদেশেও চাপ

চলমান পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। সরবরাহ–শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে—

অপরিশোধিত তেলের ৮০%

এলএনজির ৬৫%

এলপিজির ৫১%

মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আমদানি হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়িত্ব অনিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

সরকারের কৌশল: দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ বজায় রাখা

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এখন সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এজন্য প্রচলিত উৎসের পাশাপাশি নতুন উৎস থেকেও আমদানির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও আপাতত—

ডিজেল

অকটেন

পেট্রল

এর দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। ভোক্তার ওপর চাপ না দিয়ে সরকার নিজেই বাড়তি ব্যয় বহন করছে এবং প্রয়োজন হলে ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।

বিপিসির উদ্যোগ, নিশ্চিত সরবরাহ মাত্র দুই উৎসে

দেশে জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে অন্তত ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সরবরাহ মিলেছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে

এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস: ১ লাখ টন ডিজেল

সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (হংকং): ২ লাখ টন ডিজেল

অন্যদিকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সরবরাহের প্রস্তাব থাকলেও এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এলপিজি আমদানিতে শঙ্কা, বাড়ছে জাহাজভাড়া

দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১.৫ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাত সরবরাহ করে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বর্তমানে সমস্যার মূল কারণ—

জাহাজভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি

উচ্চ প্রিমিয়াম

ফলে অনেক আমদানিকারক লোকসানের আশঙ্কায় নতুন চালান আনতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।

এলএনজি সরবরাহেও চাপ

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ২৬৫–২৭০ কোটি ঘনফুট।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়—

আগে এলএনজির দাম ছিল ১০–১১ ডলার

বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২২ ডলারে পৌঁছেছে

আগামী মাসে ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা থাকলেও কাতার ও ওমান থেকে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে—

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সংকট আরও তীব্র হবে

বিকল্প উৎসে প্রতিযোগিতা বাড়বে

সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠবে

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
২০২৫ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD