1. sheikhrobirobi008@gmail.com : dailynayakontho :
  2. reporter3@dailynayakontho.com : nayakantho3941 :
  3. nayakontho@gmail.com : nayakontho :
  4. admin@dailynayakontho.com : unikbd :
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিকল্প জ্বালানি উৎসে সাড়া অনেক, তবে বিলম্বের শঙ্কা শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব উপলক্ষে পূজায় আগত ভক্তদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে রাসিক প্রশাসক।    রাজশাহীতে বিশেষ কল্যাণসভায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল। ইরান যুদ্ধ যেভাবে শেষ হতে পারে কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক গবেষকের কলাম ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে দালালই ভরসা! হাসিনা আমলের হেলমেট বাহিনীই এখনকার গুপ্ত বাহিনী’: মিজানুর রহমান মিনু।   কালুখালী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন। জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রবাসীর পরিবারের উপর হামলা বাড়িঘর ভাংচুর। সৌদি আরবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত। রাজশাহীতে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন।

দৌলতদিয়ার বাস ট্র্যাজেডিতে চালকের বাড়িতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩০ বার পঠিত

 

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা শুধু প্রাণ কেড়ে নেয়নি, ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন। সেই শোকের গভীর ছায়া সবচেয়ে বেশি নেমে এসেছে নিহত বাসচালক আরমান খান (৩২)-এর পরিবারে। তার বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি,স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিশেষ করে ব্রেক ফেল—এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালক আরমান খান, যিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খালকুলা গ্রামের বাসিন্দা।
পরদিন বৃহস্পতিবার তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, শোক ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে।

নিহতের স্ত্রী লাবনী খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“ঈদের দুই দিন আগে সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ঈদের পর ২৬ মার্চ বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফিরলো না—লাশ হয়ে এলো।”

আরমান খানের রেখে যাওয়া পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়। তার বড় মেয়ে আমেনা খাতুন স্থানীয় শহীদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে তায়েবা খাতুনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। আরও করুণ বাস্তবতা হলো—তার স্ত্রী বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরমান ছিলেন ভূমিহীন এবং সরকারি জমিতে বসবাস করতেন। বাস চালিয়েই তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে সংসার চালাতেন।
এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশরাত জাহান নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতের স্ত্রীর হাতে ২৫ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
দুর্ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বাসটি নদীতে পড়ে গেলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
২০২৫ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD