
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে তিন কিশোরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশি অভিযানে এজাহারনামীয় পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃতদের ব্যবহৃত দামী স্মার্টফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ভুক্তভোগী মোঃ মাহাদীন ইসলাম যায়েদ (১৬) তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী রাফি (১৭) ও কাকা আলী এহসান সিয়ামকে (১৭) নিয়ে সোমবার রাত ৯:৪৫ মিনিটে বিনোদপুর থেকে জিরোপয়েন্টে স্ট্রীট ফুড খেতে আসেন। সেখানে থাকা কয়েকজন যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা খাবার না খেয়েই একটি অটোতে করে বাসায় ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথিমধ্যে ৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অটোতে উঠে তাদের অপহরণ করে এবং একটি গলির ভেতর নিয়ে গিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
অপহরণকারীদের দৌরাত্ম্য ও সাহসিকতা:
অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের মারধর করে পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং বিকাশ একাউন্ট চেক করে ভয়ভীতি দেখায়। বিপদের মুখে মাহাদীন তার সাথে থাকা ‘Vivo X70 Pro’ মোবাইলটি কৌশলে তার কাকার কাছে দিয়ে দেন। একপর্যায়ে তারা একটি দোকানে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা তাদের ‘মোবাইল চোর’ সাজিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে থেকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়। পরে মাহাদীন চিৎকার করে একটি অটোরিক্সা টেনে ধরে নিজেকে রক্ষা করলেও তার ভাই ও কাকাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশি অভিযান ও ৫ আসামি গ্রেপ্তার:
মাহাদীন দ্রুত বোয়ালিয়া মডেল থানায় পৌঁছে বিষয়টি জানালে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অভিযানে নামে। অপহৃত কিশোরদের ব্যবহৃত মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে রাত ১২:১০ ঘটিকার দিকে কুমারপাড়া আড়ং শোরুমের সামনে থেকে প্রথমে তিনজনকে এবং পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে এজাহারভুক্ত বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন:
১. অমিত দাস (২২), পিতা- শ্রী উত্তম দাস (আলুপট্টি)।
২. মোঃ সানি (২২), পিতা- মৃত মোঃ আলিফ (দরগাপাড়া)।
৩. মোঃ আসিফ (২৩), পিতা- মোঃ সেলিম রেজা (মোহনপুর)।
৪. মোঃ রনি (২২), পিতা- মোঃ রেজাউল করিম (শেখের চক)।
৫. মোঃ ইমাম হোসেন (২১), পিতা- মোঃ তারিফ শেখ (শেখের চক)।
পুলিশের বক্তব্য:
বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। এজাহারনামীয় ৫ জনকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত (মোবাইল ও টাকা) জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহাদীন ইসলাম যায়েদ বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।