
স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক সনামধন্য ব্যবসায়ী ও তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসান মন্ডল (৩২) এবং তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার (২৮)।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে আহত হাসান মন্ডলের বাবা লতিফ মন্ডল (৬৪) গোয়ালন্দঘাট থানায় হামলায় জড়িত ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে রবিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা লতিফ মন্ডলের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রামের জলিল মোল্লার বাড়ির উঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শালিসে বিচারকদের রায় প্রত্যাখ্যান করে প্রতিপক্ষের জামাল মোল্লা (৩৫), তার ভাই আয়নাল মোল্লা (৪০), বোন সাহেনা খাতুন (৩৫), আয়নাল মোল্লার স্ত্রী হাসনা খাতুন (৩২), হুমাই শেখ (২৮) ও তার বোন বেলী খাতুন (২৫)সহ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা গালিগালাজ শুরু করলে লতিফ মন্ডলের বড় ছেলে হাসান মন্ডল তাদের গালাগাল করতে নিষেধ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাসান মন্ডলকে মেরে ফেলানোর উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হাসানের মন্ডলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারকেও কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা হাসান মন্ডলের পকেটে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা সাত আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।