
মোঃ শাহাবউদ্দিন ইসলাম আক্কেলপুর প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবন শেষে রাজনীতিতে পা রাখেন আবদুল বারী। খুব বেশি সময় নেননি। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই জয়পুরহাট-২ আসনে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তিনি পরিচিত ‘ডিসি বারী’ নামে।
জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বলিশিব সমুদ্র গ্রাম তাঁর জন্মস্থান। প্রশাসনে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাঠ প্রশাসন থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়—দুই ক্ষেত্রেই আছে তাঁর অভিজ্ঞতা। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যান।
আবদুল বারী অবসরের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও গত এক বছরে এলাকায় নিয়মিত সময় দিতে শুরু করেন। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের নানা আয়োজনে উপস্থিতি তাঁকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করে তোলে।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি সাংগঠনিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তরুণ নেতা–কর্মীদের নিয়ে আলাদা সমন্বয় টিম গঠন, ইউনিয়নভিত্তিক মতবিনিময় সভা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ—এসব কৌশল তাঁকে এগিয়ে রাখে।
প্রচারণায় বড় মিছিলের বদলে ছোট ছোট উঠান বৈঠক ও ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় জোর দেন আবদুল বারী। এতে গ্রামীণ ভোটারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি, শহর এলাকাতেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল পান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়পুরহাট-২ ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে ভোটারের কাছে ‘কাজ জানেন’, এমন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
ক্ষেতলালের কৃষক ও বিএনপির কর্মী আজিজুর রহমান বলেন, ‘এত সহজে কেউ দলীয় মনোনয়ন পান না, আবার এমপি হন না। ডিসি বারী স্যার অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আমরা কৃষক মানুষ, ফসলের ভালো দাম পেলেই খুশি।’
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ বলেন, নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত এমপি তিন উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তিনি সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল বারী বলেন, ‘আমি জয়পুরহাট-২ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। দলে মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে দল একটাই। দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের গ্রুপিং রাজনীতি বরদাশত করা হবে না। চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের দলে কোনো স্থান হবে না।’