
স্টাফ রিপোর্টার: রিমন হোসেনঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নে আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (অর্ডার ৩৯ রুল-১) অমান্য করে এক প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বিলকিস বেগম অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য ও কুলিয়ারচর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো. মঈনউদ্দিন, রামদী ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড এর সভাপতি কাসেম আলী, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা উজ্জল মিয়া, হারুন মিয়া ও হামিদ মিয়া পরিকল্পিতভাবে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কাবিটা প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে তার বসতঘর, রান্নাঘর, গাছপালা ও কৃষিজমি ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন,
“আমার স্বামী জিল্লুর রহমান ও দুই ছেলে সাইপ্রাসে প্রবাস জীবনযাপন করছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় আমাদের দুর্বল ভেবে দিনের আলোতে ভেকু এনে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন বর্বরতা আমাদের মানবেতর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কুলিয়ারচর সিভিল জজ আদালত (বাজিতপুর চৌকি) কর্তৃক চলতি বছরের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ রুল-১ অনুযায়ী নালিশী জমিতে সব ধরনের নির্মাণ, ভাঙচুর, গাছ কর্তন ও দখল পরিবর্তনের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অভিযুক্তরা ভেকু দিয়ে বসতভিটা ধ্বংস চালায়, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।
জিল্লুর রহমানের পুত্র সাইপ্রাস প্রবাসী সাদ্দাম হোসেন বলেন,
“আমাদের জায়গা আমরা বৈধভাবে ভোগদখলে রেখেছি। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মেম্বার মঈনউদ্দীন কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে, ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
জমির মালিকানা ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ
বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পুর্বের ১৭৯ দাগে এবং নতুন রেকর্ডীয় দাগ ২১৫ দাগে সিএস আরও এসএ ও আরএস রেকর্ডে তাদের পৈতৃক মালিকানা প্রমাণিত এবং পুর্বের ৩১ ধারা মামলাতে আমরা রায় পেয়েছি।
রামদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বিগত ১৯৯৬ কিংবা ১৯৯৭ সালে একই দাগে এলাকাবাসীর দাবীর মূখে আমাদের বাড়ির পূর্ব প্বার্শে জনস্বার্থে ২ শতাংশ জমি মৌখিকভাবে রাস্তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। এখন একই দাগে দ্বিতীয়বার রাস্তা নির্মাণ করলে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে, যা আইনসিদ্ধ নয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভেকু দিয়ে মাটি কাটার ফলে কলাবাগান ও ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মঈনউদ্দিন দাবি করেন,
“এটি সরকারি হালট রাস্তা। তারা দখল করে বসতঘর নির্মাণ করেছে। জনস্বার্থে রাস্তা করা হচ্ছে।”
তবে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের আদেশের কপি প্রদর্শন করে তার বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন,
“ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুন্নবী জানান,
“লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বিলকিস বেগম বলেন,
“প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অথচ তাদের পরিবার আজ নিরাপত্তাহীন। আমরা মাননীয় বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ও ভৈরব-কুলিয়ারচরের মাঠি ও মানুষের নেতা শরীফুল আলম, প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের ঘর ফেরত চাই, ন্যায়বিচার চাই।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।