
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ, ২৪ আগস্ট ২০২৫:
দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গণজাগরণমুখী বিক্ষোভ মিছিল।
‘অপশক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার আন্দোলন’ শিরোনামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় শহরের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব সমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
শহরের বুকে ছাত্র জনতার গর্জন
শুক্রবার বিকেল ৪টায় শহরের বৌউ বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বত্রিশ রোড, আখড়া মোড়, গৌরাঙ্গ বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বৌউ বাজারে এসে শেষ হয়।
মিছিল জুড়ে ছিল ব্যাপক স্লোগান ও ছাত্রদের দৃপ্ত পদচারণা। প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লেখা ছিল—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান।
প্রতিবাদের ভাষায় মুখর ছিল কিশোরগঞ্জ
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা উচ্চারণ করেন:
“আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বন্ধ করো!”
“অপশক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াও!”
“ছাত্র জনতা একত্রিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল!”
“বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলবে!”
এই স্লোগানগুলো শুধু প্রতিবাদের ধ্বনি নয়—এগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায়ের পথে অটল থাকার শপথ।
বক্তৃতায় ফুটে ওঠে ক্ষোভ ও প্রত্যয়
সমাবেশ শেষে বক্তব্য দেন ছাত্র প্রতিনিধি ইয়াছিন ইসলাম আপন। তিনি বলেন,
> “আমরা যে আন্দোলন করছি, তা সম্পূর্ণ ন্যায়ের জন্য। কিছু অপশক্তি এটিকে দমিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আমরা হুঁশিয়ার করছি—এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন,
> “আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ভেঙে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবো।”
প্রশাসনের উদ্দেশে তিন দফা দাবি
সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের কাছে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেন:
১|আন্দোলনকারী ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২|হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৩| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—প্রশাসনের উদাসীনতা আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া
বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
অনেকেই মিছিলের প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখেছেন, “এটাই আমাদের ভবিষ্যতের প্রজন্ম, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করেনি।”
ছাত্র জনতা: সমাজের সচেতন কণ্ঠস্বর
এই বিক্ষোভ প্রমাণ করেছে, ছাত্র জনতা এখনো সমাজের বিবেক। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় তারা বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে—এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
তাদের কণ্ঠে আজ শুধুই ক্ষোভ নয়, আছে পরিবর্তনের বার্তা।
কিশোরগঞ্জের রাজপথে আজ শুধু ছাত্রদের নয়, উঠে এসেছে একটি প্রজন্মের প্রতিবাদ—যারা স্বপ্ন দেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও স্বাধীন সমাজের। এই বিক্ষোভ কেবল একটি শহরের প্রতিবাদ নয়—এটি একটি জাতীয় অন্তর্দাহের প্রতিচ্ছবি