
মুজাহিদ শেখ, স্টাফ রিপোর্টার ঃ
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে শনিবার সন্ধ্যা সময় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি তুলা কারখানা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন কারখানাটির মালিক মিজান মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন ফায়ার সার্ভিসের দেরি ও সমন্বয়হীনতায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা নায়েব আলী জানান, “প্রথমে আগুন লাগতেই আমরা দৌড়ে যাই, পানি দেই, কিন্তু আগুন এত ভয়াবহ ছিল যে কিছুতেই থামছিল না। আমরা সাথে সাথে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসে ফোন করি, কিন্তু তারা অনেক দেরি করে আসে। পরে শৈলকূপা থেকেও একটা টিম আসে।”
দুটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, ততক্ষণে কারখানাটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতি না থাকলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটা হতো না। তারা জানান, শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দিকনির্দেশনায় ব্যর্থ হন, পানি সরবরাহেও দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।
একজন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী বলেন, “এটা দুর্ঘটনা না, এটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। লোকজন আগুন নেভাতে মরিয়া, কিন্তু যারা বেতন নেয়, তারা আসে পরে, এসে দাঁড়িয়ে থাকে তাদের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কোনো প্রস্তুতি নেই।”
শৈলকূপা ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, “আমরা সংবাদ পেয়েই ছুটে আসি, তুলা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে। তবে আমরা আশপাশের দোকান বাঁচাতে পেরেছি।”তবে তিনি আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তার ভাষ্য, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা শর্ট সার্কিটের কারণে হতে পারে।”তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি শর্ট সার্কিট হয়, তাহলে সেটি প্রতিরোধে আগেই ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি? এবং আগুন লাগার পর কেন জেলা ফায়ার সার্ভিস বা শ্রীপুর ইউনিট সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি?
জনমনে ক্ষোভ: প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দাবি জানান।ঘটনার পর লাঙ্গলবাঁধ বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিসের শ্রীপুর ইউনিটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই ঘটনার দায় স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হোক।স্থানীয়দের মতে, “শুধু আগুন নেভানো নয়, আগেই কারখানার ঝুঁকি শনাক্ত করা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তদারকি করা এবং সময়মতো উপস্থিত হওয়া—এসব দায়িত্বও ফায়ার সার্ভিসের।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “জেলা ফায়ার সার্ভিসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সমন্বয়হীনতা চলছে। বারবার স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠছে, কিন্তু কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি।”
এটি শুধুই একটি অগ্নিকাণ্ড নয়—এটি একটি ব্যর্থতার প্রতীক। স্থানীয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবার দুর্বলতার ভয়াবহ উদাহরণ। যদি এই ঘটনার দায় নির্ধারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যাবে।