1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক রাজবাড়ীতে VBD-এর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সমাজসেবায় দক্ষ করে তুলতে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ। পাঁচবিবিতে থানা পুলিশের অভিযানে ৪ ফুট উচ্চতার মাদক গাঁজা গাছ উদ্ধার। রাজশাহী মহানগরীতে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ ৯ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পাংশায় মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত। রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশেষ অভিযানে ১০২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, আটক ২ অভিযানে নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার ৫০ লিটার চোলাই মদ ও ৮১ হাজার ৮০০ টাকা টাঙ্গাইলে আধুনিক ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ। সৌদি প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি

গাবসারার আশ্রয়ণ প্রকল্প: স্বপ্নের ঘর এখন হতাশার ধ্বংসস্তূপ

  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫১ বার পঠিত

 মো:ফাকরু আহমেদ (টাঙ্গাইল)

একসময় বুকভরা আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছিল শত পরিবার। মাথার ওপর ছাদ, পায়ের নিচে জমি—ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও মানবিক জীবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০০১ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল গাবসারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু, কালের পরিক্রমায় সেই আশ্রয়ণ এখন পরিণত হয়েছে হতাশার এক ধ্বংসস্তূপে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখে চরম ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘরগুলোর দেয়াল ও টিনে দৃশ্যমান ক্ষয়-ক্ষতি এবং অনেক জায়গায় ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় প্রকল্পের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর, অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধযুক্ত। বেশ কিছু ঘরের নিচের পিলারেও দেখা গেছে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন, যার ফলে সামান্য ভূমিকম্প বা ঝড় এলেই পুরো কাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বহু ঘরের নিচে জমে থাকা গোবর ও পশুখাদ্য এখন প্রাণীদের খোয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর আশপাশের জঙ্গল ও আগাছায় ঢাকা পড়েছে প্রকল্পটি। জানা যায়, প্রকল্পটি প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছিল এবং সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল ভূমিহীন ও অসহায় ১০০টি পরিবার। কিন্তু ২৫ বছরের মধ্যে সেই স্বপ্ন এখন এক নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে—অস্তিত্বের সংকটে পড়ে বর্তমানে মাত্র ১২টি পরিবার এখানে বসবাস করছে। বাকি পরিবারগুলো বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে অন্যত্র চলে গেছে। প্রথমদিকে টিনের দোচালা ঘর এবং জমির মালিকানা পেয়ে অনেকেই আনন্দে আত্মহারা ছিলেন, তাদের চোখে ছিল নিরাপত্তার আলো এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি হারিয়েছে তার গৌরব। বর্তমানে বৃষ্টিতে টিনের ঘর ভিজে যায় এবং ঠেকাতে পলিথিনই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টয়লেট, গোসলখানা বা সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ টিউবওয়েল অকেজো, আর অনেক ঘরই ভেঙে পড়েছে। এদিকে, আশ্রয়ণের সাবেক বাসিন্দা ওয়েদ এবং নাসির বলেন,”নামে আশ্রয়ণ, কিন্তু এখানে মানুষ থাকার মতো পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে চলে গেছি।” এছাড়াও, বর্তমান বাসিন্দা মোমেনা বেগম, আমবিয়া বেগম, সুখিতন বেগম এবং সুরত আলীরা জানান,”প্রতিবার অভিযোগ করলেও কেউ কোনো কাজ নেয়নি। দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। বৃষ্টি, সাপ, পোকামাকড় বা চোর ঢুকে পড়তে পারে—এই আতঙ্কে দিন কাটে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই এখানেই থাকতে হচ্ছে।” স্থানীয়দের মতে, অনেকবার উন্নয়ন বরাদ্দ এলেও দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ঘরের সংস্কার বা টেকসই উন্নয়নের সুযোগ বারবার হারিয়ে গেছে। গাবসারা ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলাম আকন্দ শাপলা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আমাদের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাই যেন এটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। এতে করে স্থানীয়রা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আব্দুল্লাহ খান বলেন, প্রকল্পটির দুরবস্থার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD