
গোয়ালন্দে যৌথ অভিযানে অনুমোদনহীন গড়ে ওঠা ভিক্টর ভিলেজ হ্যাচারীজকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা
মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
পরিবেশ অধিদপ্তর প্রদত্ত পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন, কৃষি জমি দখল করে খামার স্হাপন এবং কোন ধরনের অনুমোদন না থাকার অভিযোগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ভিক্টর ভিলেজ হ্যাচারীজ লিঃ ফার্মকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৪ মে ২০২৫) দুপুরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
এর আগে ওই হ্যাচারীজের অসংখ্য মরা মুরগী, পঁচা ডিম ও বিষ্ঠার দূর্গন্ধে মারাত্মক দূষণের শিকার কয়েকশ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রতিকার চেয়ে গত ৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হ্যাচরীজটির মালিক গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শেখ মোঃ নিজামের মামা মোঃ রুহুল আমিন। আওয়ামী লীগের প্রভাবে দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকার মানুষ সীমাহীন ভোগান্তি পোহালেও তাদের দাপটে মুখ খুলতে পারেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
অভিযান পরিচালনা করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ আহমেদ। অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান, রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদসহ রাজবাড়ী পুলিশ লাইন ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের একটি দল।
স্হানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচারীজটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জনগনের দুর্ভোগের বিষয়টি তোয়াক্কা না করে উপজেলার পশ্চিম উজানচর মইজউদ্দিন মন্ডল পাড়া এলাকায় বৃহৎ পরিসরে হ্যাচারীজ ও খামার পরিচালনা করে আসছিল। খামারটির কারণে এলাকার শতশত বিঘা আবাদি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় খামারের বর্জ, মরা মুরগি, ডিম ও বিষ্ঠা সহজেই শেয়াল, কুকুর, কাকে আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়।
অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিন দেখতে পায়, হ্যাচারীজটি সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার ফলে আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া নির্ধারিত অনুমোদন ছাড়াই পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণও পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নাহিদ আহমেদ জানান, ভিক্টর হ্যাচারীজ কর্তৃপক্ষকে আজকে জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছে। তারা অবস্থার উন্নতি না ঘটালে ভবিষ্যতে হ্যাচারিটি স্হায়ীভাবে বন্ধ করে দেবেন।
তিনি আরো বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।