স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি,ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।এতে মাদ্রাসার সব শ্রেণীর পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে।গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।পরে সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
মাদ্রাসা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়,উপজেলার পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রমজান আলী ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) ও পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হওয়ার
সুবাদে প্রভাব খাঁটিয়ে তার স্ত্রী আঞ্জুমনোয়ারাকে একই মাদ্রাসায় আয়া পদে নিয়োগ দেন।গত মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষার পূর্বে ৯ম শ্রেণির কক্ষে আবর্জনা থাকায় শিক্ষার্থীরা আয়া আঞ্জুমনোয়ারাকে তা পরিষ্কার করতে বলেন।এ সময় আয়া ও তার স্বামী রমজান আলী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।একপর্যায়ে বলেন যে,তোদের মা-বোন এনে এসব পরিষ্কার করা।আমার বউ এসব করতে পারবে না।শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে শিক্ষক রমজান আলী মুঠোফোনে বহিরাগত লোকজন ডেকে এনে তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,একাডেমিক সুপারভাইজার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।এঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শিক্ষার্থী আল-আমিন,শাকিল ও সোহান জানান, আয়া মাদ্রাসায় আসেন না,আসলেও তার সাথে কথা বলা যায় না।আয়াকে কক্ষ পরিষ্কার করার কথা বললেই শিক্ষক রমজান স্যার আমাদের মারতে আসেন।
মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী রুহুল আমিন অভিযোগ করেন,আঞ্জুমনোয়ারা এবং তিনি একসঙ্গেই চাকরি নিয়েছেন।কিন্তু তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও আয়া অনুপস্থিত থাকেন, প্রায় দুইবছর ধরেই আয়া আঞ্জুমনোয়ারা মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়েই নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন।তিনি মাসে মাত্র ১-২ দিন উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পুরোমাসের স্বাক্ষর একসাথে দিয়ে যান।
অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আয়া ও তার স্বামীর অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা যায় না।কিছু বললেই শো-কজ ও চাকরিচ্যুতির হুমকি, বহিরাগত ক্যাডার এনে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান।
শরীর চর্চা শিক্ষক এ কে এম আমিনুল হক অভিযোগ করেন, ‘গত ২৬ নভেম্বর আমি আয়ার কাছে পানি চাইলে স্বামী-স্ত্রী মিলে আমাকে মারধর করে।
এ-ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, ‘আয়া আঞ্জুৃমনোয়ারা ও তার স্বামী রমজান আলীকে অফিসিয়ালভাবে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন হননি।তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এমন ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক রমজান আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এবিষয়ে এখন তার কোন বক্তব্য নেই। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
এ-বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ‘হামলা-মারধরের বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।এর আগেও অভিযুক্ত ওই দম্পতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ-ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. চাঁদ মিয়া বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।এখনও লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।