
সুজন খন্দকার ঃ মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুসারে পদ্মা ও তার শাখা নদী থেকে অনুমতি ছাড়া অবৈধ বাংলা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে হাইকোর্ট।
এই রায়কে অমান্য করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফইজদ্দিন মাত্তার পাড়া সংলগ্ন মরাপদ্মা নদী থেকে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে
দীর্ঘ ৩ বছর যাবত প্রকাশ্যে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে অত্র এলাকার অন্তত ২০ গ্রামের লাখো মানুষ। সেইসাথে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে অন্তত ২০০ বিঘা ফসলি জমি,বাড়ীঘর-বসতভিটা সহ নানা স্থাপনা।
ভুক্তভোগী কাজল বেগম বলেন, বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা প্রভাবশালি হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। এতে ভিটেমাটি হারীয়ে পথে বসতে শুরু করেছে তারা।
আরেক বাসিন্দা কুদ্দুস আলম বলেন,এই চক্র সবাইকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছে। কেউ তাদের কিছুই করতে পারে না।
মিনা বেগম নামে এক গৃহকর্মী বলেন,এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে যেই কথা বলেছে সেই তাদের হামলার শিকার হয়েছে। তাই প্রাণ ভয়ে সবাই মুখ বুঝে সহ্য করছে এই অত্যাচার।
আর উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গুলজার হোসেন মৃধা জানান,মরা পদ্মা থেকে বালু উত্তোলন করার কোন সুযোগ নেই। আমরা ইতিমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ ভাবে উজানচর ইউনিয়নের ফৈইজদ্দিন পাড়া সংলগ্ন মরা পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। অতি শিগ্রাই উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে মাঠে নামবে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সে যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ছাড় দেওয়া হবে না কাউকে।