
আলোচিত শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন; হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি, আরএমপি
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার বহুল আলোচিত ও ক্লু-লেস শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে আদিব আহনাফ তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন ২ মার্চ সকালে কর্ণহার থানাধীন বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার পিতার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) জনাব মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) জনাব মো. হাফিজুর রহমান, বিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস টিম মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সূত্রের সহায়তায় ব্যাপক অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। তদন্তে জানা যায়, আক্রোশ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও ঘটনায় জড়িত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত ১৪ বছরের একজন শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গত ২২ জুন বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং নিজেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের কথা স্বীকার করে। তার বর্ণনা মতে একজন মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা ভিকটিম শিশু জানতে পেরে ঐ মেয়ের মাকে বলে দেয়। মেয়ের মা বিষয়টি আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুর মাকে জানাই। তখন তার মা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এটির প্রতিশোধ নিতেই সে রমজান মাসে ভিকটিম শিশুটি তারাবির নামাজ পড়ার জন্য বের হলে কৌশলে তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে দিয়ে চলে আসে।
অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কোমরের বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে ডিবি, আরএমপি আবারও তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও অপরাধ দমনে দৃঢ় অঙ্গীকারের স্বাক্ষর রেখেছে।